
কক্সবাজারের সীমান্ত উপজেলা টেকনাফের পাহাড়ি এলাকায় পুলিশের এক বিশেষ ও যৌথ অভিযানে আগ্নেয়াস্ত্রসহ চিহ্নিত ডাকাতি মামলার আসামি করিমকে আটক করা হয়েছে। আজ সোমবার ১৯ অক্টোবর ভোরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পাহাড়ি অঞ্চলে গড়ে ওঠা তার একটি আস্তানা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে একটি দেশীয় একনলা বন্দুক ও কয়েক রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে টেকনাফের দুর্গম পাহাড়ি এলাকাকে আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহার করে একটি ডাকাত দল স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীদের ওপর ডাকাতি, অপহরণ ও চাঁদাবাজি চালিয়ে আসছিল। আটককৃত করিম ওই পাহাড়ি ডাকাত দলের অন্যতম সক্রিয় সদস্য এবং তার বিরুদ্ধে টেকনাফ থানাসহ একাধিক থানায় ডাকাতি ও অস্ত্র আইনে একাধিক মামলা রয়েছে।
অভিযানের বিষয়ে টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, “আমাদের কাছে গোপন তথ্য ছিল যে, একদল ডাকাত পাহাড়ি গহীন এলাকায় সংগঠিত হয়ে বড় ধরনের অপরাধের প্রস্তুতি নিচ্ছে। খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশের একটি বিশেষ দল ওই পাহাড়ি এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাত দলের অন্য সদস্যরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও একনলা বন্দুকসহ করিমকে হাতেনাতে আটক করা হয়।”
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পাহাড়ি ডাকাত দলের উৎপাতে দীর্ঘদিন ধরে তারা আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছিলেন। বিশেষ করে পাহাড়ি সড়কগুলোতে প্রায়ই পথচারী ও যাত্রীবাহী যানবাহনে ডাকাতি এবং অপহরণের ঘটনা ঘটে আসছিল। এই চিহ্নিত ডাকাত গ্রেফতার হওয়ায় এলাকায় কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, আটককৃত আসামির বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে নতুন করে মামলা দায়ের করার প্রস্তুতি চলছে এবং তার সহযোগীদের গ্রেফতারের জন্য পাহাড়ি এলাকায় পুলিশের চিরুনি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হবে।