
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোট নিশ্চিত করা না গেলে তা কেবল একটি আসনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় জোট।
জোটের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, ভোটের পরিবেশ নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হলে সারাদেশে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়বে এবং এর রাজনৈতিক পরিণতির দায় সরকার ও নির্বাচন কমিশন উভয়কেই নিতে হবে। ১৯৯৪ সালের উপনির্বাচনের প্রেক্ষাপট টেনে জামায়াত নেতারা বলেন, তৎকালীন সরকারের পতনের মতো পরিস্থিতি যেন তৈরি না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলীয় জোটের সমন্বয়ক এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ এসব কথা বলেন। এ সময় জোটের শীর্ষস্থানীয় অন্যান্য নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন কেন্দ্র করে ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে চারটি সুনির্দিষ্ট প্রধান দাবি উপস্থাপন করা হয়। প্রথম দাবি হিসেবে নির্বাচনে অবিলম্বে সেনাবাহিনী মোতায়েনের জোর দাবি জানানো হয়। নেতারা বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অন্যান্য সংস্থার ওপর জনগণের আস্থার সংকট রয়েছে, কিন্তু তুলনামূলকভাবে সেনাবাহিনীর ওপর মানুষের আস্থা এখনও অক্ষুণ্ন রয়েছে। সেনাবাহিনী মাঠে থাকলে ভোটাররা নির্ভয়ে কেন্দ্রে যেতে পারবেন। দ্বিতীয় দাবি হিসেবে সদর উপজেলার ইউএনও খায়রুল ইসলামকে নির্বাচনের আগেই সম্পূর্ণ প্রত্যাহার এবং তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানানো হয়। তৃতীয় দাবি ছিল- নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া এবং চতুর্থ দাবি হিসেবে ভোটগ্রহণ, গণনা ও ফলাফল প্রকাশ-এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে কেন্দ্রীয়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা।
নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা, হামলা এবং হিন্দু ভোটারদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ঠাকুরগাঁও-১ আসনে প্রায় ১ লাখ ৬৮ হাজার হিন্দু ভোটার রয়েছেন। তাদের ওপর হুমকি-ধমকি ও মারধরের অভিযোগ আসছে। এই পরিস্থিতিতে সংবিধানের সপ্তম ভাগের ১১৮ থেকে ১২৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে কমিশনকে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে। তিনি বলেন, শুধু আশ্বাস বা বক্তব্য কোনো সমাধান নয়, মাঠপর্যায়ে তার বাস্তব প্রতিফলন দেখতে হবে। অন্যথায় কমিশন যতই নিজেদের স্বাধীন ও শক্তিশালী দাবি করুক না কেন, তা প্রমাণিত হবে না।
কমিশনের পক্ষ থেকে সুন্দর পরিবেশে বৈঠক ও ইতিবাচক আশ্বাস দেওয়া হলেও মাঠের পরিস্থিতির সঙ্গে তার মিল না পেলে একে ‘আইওয়াশ’ বলে অভিহিত করা হবে বলে জানান জোটের সমন্বয়ক। তিনি বলেন, ভোটের আগের পরিস্থিতি এবং অতীতের বিভিন্ন নির্বাচনের অভিজ্ঞতা থেকে অনেক সময় আগামী দিনের চিত্র অনুমান করা যায়। তবে শেষ পর্যন্ত আগামীকালের ভোটগ্রহণের সার্বিক পরিস্থিতি এবং ফলাফল দেখেই জোট তাদের চূড়ান্ত অবস্থান ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, মন্ত্রীর বক্তব্যের কারণে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের রোডম্যাপে পরিবর্তন আনা হয়েছে, যা কমিশনের স্বাধীনতার ওপর প্রশ্ন তোলে। এ ছাড়া ভোটার স্থানান্তরের নানা অনিয়ম ও অসংগতির বিষয়েও কমিশনকে অবহিত করা হয়েছে বলে জানান তিনি। ঠাকুরগাঁওয়ের উপনির্বাচনই নির্বাচন কমিশনের জন্য একটি বড় পরীক্ষা হিসেবে কাজ করবে এবং এর মাধ্যমেই প্রমাণিত হবে কমিশন কতটা স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালন করতে সক্ষম।