October 29, 2026, 3:13 am
শিরোনাম :
ডিএসসিসির উচ্ছেদ অভিযান, শতাধিক অবৈধ অবকাঠামো উচ্ছেদসহ মালামাল জব্দ সব সম্পদের বিনিময়ে মুক্তি চান মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযুক্ত শিক্ষক সাগর এনসিপির জেলা থেকে ওয়ার্ড কমিটিতে থাকতে পারবেন না চলমান শিক্ষার্থীরা কাবা শরীফে পৃথক জামাতের প্রচলন বন্ধ করে এক ইমামের পেছনে নামাজের ১০০ বছর মিরপুরে আলোকস্বল্পতায় বন্ধ খেলা ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনা ৫০ শতাংশ কমাতে চায় সরকার : প্রতিমন্ত্রী নেতানিয়াহুকে হটাতে আরব ইসরায়েলিদের সঙ্গে জোট করার আহ্বান বিরোধী নেতার চট্টগ্রামে দুই হত্যা মামলায় ডেভিড ইমনের ৭ দিনের রিমান্ড বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কোক স্টুডিওর বিশেষ প্রতিযোগিতা সেনাবাহিনী মোতায়েন ও ইউএনও প্রত্যাহারসহ চার দাবি ১১ দলীয় জোটের

রামুতে ছাত্রদল নেতার নিয়ন্ত্রণে মাদক চোরাচালান, গরুপাচার ও এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব

স্টাফ রিপোর্টার

• রামুতেই নতুন ইয়াবা মাফিয়া ওয়ার্ড ছাত্রদল নেতা সায়েদ, অল্পদিনেই ডাকাত শাহীনের সম্রাজ্য গড়ে তুলেন এই পিচ্চি ইয়াবা সম্রাট •

 

কক্সবাজারের রামু উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি এলাকার গর্জনীয়া ইউনিয়নের একজন ওয়ার্ড ছাত্রদল নেতার নেতৃত্বেই চলছে মাদক চোরাচালানের নিয়ন্ত্রণ। প্রতিটি মাদক কারবারিদেরকে একাই শেল্টার দিয়ে বিলাসী জীবনযাপন করেন সাধারণ পরিবার থেকে উঠে আসা একজন ওয়ার্ড ছাত্রদল নেতা। পাশাপাশি গরু চোরাচালানের সময় সীমান্তের ওপার থেকে ছটকে নিয়ে আসেন মাদক এবং বিনিময়ে পাচার করেন জালানি তেল, সিমেন্টসহ নানা অবৈধ সামগ্রী।

 

তার নেতৃত্বেই রয়েছে একটি শক্তিশালী পাচারকারী সেন্ডিকেট। তবে তিনি এসব রপ্ত করেছেন একই ইউনিয়নের মাঝিরকাটা এলাকার শীর্ষ সন্ত্রাস ডাকাত শাহীন থেকে। তিনি হলেন ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ড থোয়াইঙ্গাকাটা এলাকার ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক শাহাদাত হোসেন সায়েদ। হঠাৎ করেই মাথাচাড়া দিয়ে উঠেই মাদক চোরাচালান, সীমান্ত পেরিয়ে গরু চোরাচালানের সাথেও বেশ সক্রিয়। এছাড়াও এলাকায় ছাত্রদল নেতা পরিচয়ে চালাচ্ছে ত্রাসের রাজত্ব। পাশাপাশি স্থানীয় বিভিন্ন এনজিও আইএনজিও থেকে গোপনে চাঁদাবাজি করতে বিভিন্ন চাকরিজীবীদের হয়রানি করেন বলেও জানা যায়।

 

গভীর রাত হলেই তার নেতৃত্বে একদল যুবক মিয়ানমারের ওপারে বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন পণ্য সাপ্লাই করেন। এসবের বিনিময়ে ইয়াবা-আইসসহ নিয়ে আসেন বান্ডিল বান্ডিল মাদক।

 

সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে একেরপর এক অভিযোগ এনে এলাকাবাসী এমন লোমহর্ষক তথ্যের বর্ণনা দেন। স্থানীয় এক মুদির দোকানদার (নাম প্রকাশেঅনিচ্ছুক) বলেন, সায়েদ নামের একজন ছাত্রদল নেতা আমাদের এলাকায় বিভিন্ন সময় নিজেকে নেতা পরিচয়ে বিভিন্ন মানুষকে হয়রানি করে আসছে। তার একটি শক্তিশালী সেন্ডিকেট রয়েছে, যারা রাতে মাদক, অস্ত্র, গরু চোরাচালানের সাথে সরাসরি জড়িত। তিনি অভিযোগ করে আরও বলেন, তার বিরুদ্ধে কেউ কথা বললেই নিজেকে ডাকাত শাহীনের একান্ত সচিব এবং স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের নানা ব্যক্তির পরিচয় দিয়ে থাকেন।

 

একই এলাকার নুর আয়েশা (৩৫) নামের একজন নারী বলেন, সায়েদের পরিবার একসময় নুন আনতে পান্তা ফুরাতো যেখানে, সেখানে ছাত্রদল নেতা হওয়ার পর থেকেই ভিআইপি মোটরসাইকেল, চালচলন এবং কথাবার্তা থেকে শুরু করে সবকিছুতেই আমূল-পরিবর্তন হয়েছে। সবকিছুই অবৈধ ব্যবসার মাধ্যমে হয়েছে। এলাকায় তার একটি শক্তিশালী সেন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। যাদেরকে দিয়েই নিয়মিত অপরাধ সম্রাজ্য গড়ে তুলার চেষ্টা চালাচ্ছেন।

 

স্থানীয় সাবেক ওয়ার্ড মেম্বার আবদুল জব্বার (৪৩) বলেন, সামান্য একজন ওয়ার্ড ছাত্রদল নেতা পরিচয়ে অল্প বয়সী একজন ছেলে মানুষ যদি হঠাৎ পরিবর্তন দেখা যায়, সেখানে অদৃশ্য কোন কারণ অবশ্যই থাকতে পারে। তবে প্রশাসন এবং ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দরা মিলে যাচাই-বাছাই করে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহন করা প্রয়োজন বলে মনে করছি। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকেও তার বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকা প্রয়োজন বলে মনে করছি।

 

এদিকে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে বলেন, আসন্য স্থানীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে তার নেতৃত্বে একটি শক্তিশালী চাঁদাবাজ সেন্ডিকেট গড়ে তুলেছে। যাদের পরিকল্পনা রয়েছে প্রতিটি প্রার্থীকে নানা প্রতিশ্রুতি ও ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা আদায় করার। এমনকি তাকে চাঁদা না দিলে নির্বাচন না করারও হুমকি দেন গোপনে। একইসাথে এলাকার প্রতিটি ভোটের জন্যও তাকে মোটা অংকের টাকা দিতে হবে বলে এমন অভিযোগ তুলেন স্থানীয়রা।

 

সর্বশেষ অনুসন্ধানে তার বিরুদ্ধে একেরপর এক তলের বিড়াল বেরিয়ে আসছে। যা শুনা মাত্রই শিহরে উঠার মতো অবস্থা। রামু উপজেলার শীর্ষ সন্ত্রাস ডাকাত শাহীন একসময় পুরো উপজেলা জুড়ে যেমন মাদক,গরু চোরাচালান থেকে শুরু করে সবকিছুই যেভাবে নিয়ন্ত্রণ করতো, তেমনি শাহাদাত হোসেন সায়েদও এখন গর্জনীয়া ইউনিয়ন নিয়ন্ত্রণ করেন মাফিয়া স্টাইলে, যদিওবা তার ফেসবুক পেইজে নিজেক সবসময় মানবিক ও প্রতিবাদী বলে দাবী করেন। বিভিন্ন সময় মানুষকে হয়রানিমূলক হুমকি দেয়ারও কল রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরগরম হয়ে উঠে।

 

তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের বিষয়ে একাধিকবার যোগাযোগ করার পরেও কোন বক্তব্য দেয়নি।

 

স্থানীয়দের একটাই দাবি, তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহন করা বা গেলে, ছাত্রদলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হবে, পাশাপাশি এলাকায় মাদকের আগ্রাসন ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বেড়ে যাবে। অতিদ্রুত তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করার জন্য আকুল আবেদন করছেন এলাকার সচেতন মহল পেশাজীবি সর্বস্তরের মানুষ।