October 28, 2026, 10:45 pm
শিরোনাম :
ডিএসসিসির উচ্ছেদ অভিযান, শতাধিক অবৈধ অবকাঠামো উচ্ছেদসহ মালামাল জব্দ সব সম্পদের বিনিময়ে মুক্তি চান মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযুক্ত শিক্ষক সাগর এনসিপির জেলা থেকে ওয়ার্ড কমিটিতে থাকতে পারবেন না চলমান শিক্ষার্থীরা কাবা শরীফে পৃথক জামাতের প্রচলন বন্ধ করে এক ইমামের পেছনে নামাজের ১০০ বছর মিরপুরে আলোকস্বল্পতায় বন্ধ খেলা ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনা ৫০ শতাংশ কমাতে চায় সরকার : প্রতিমন্ত্রী নেতানিয়াহুকে হটাতে আরব ইসরায়েলিদের সঙ্গে জোট করার আহ্বান বিরোধী নেতার চট্টগ্রামে দুই হত্যা মামলায় ডেভিড ইমনের ৭ দিনের রিমান্ড বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কোক স্টুডিওর বিশেষ প্রতিযোগিতা সেনাবাহিনী মোতায়েন ও ইউএনও প্রত্যাহারসহ চার দাবি ১১ দলীয় জোটের

লামায় নিখোঁজের চার দিন পর চট্টগ্রাম থেকে উদ্ধার তিন কিশোরী

নিজস্ব প্রতিবেদক

বান্দরবানের লামা উপজেলায় রেজিস্ট্রেশন কার্ড আনতে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হওয়া তিন কিশোরীকে চার দিন পর চট্টগ্রাম মহানগরী থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।

 

বুধবার (১৪ অক্টোবর) দিবাগত রাতে খুলশী থানা এলাকার পৃথক দুটি বাসা থেকে তাদের উদ্ধার করা হয়। পরে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তিন কিশোরীকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

 

উদ্ধার হওয়া তিন কিশোরী হলো লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ইয়াংছা-অংহ্লারী পাড়ার বাসিন্দা আবুল হাশেমের মেয়ে তানিয়া সুলতানা (১৩), শহিদুল ইসলামের মেয়ে রেশমি আক্তার (১৭) ও বেলাল উদ্দিনের মেয়ে হালিমাতুচ্ছ সাদিয়া (১৪)। তাদের মধ্যে তানিয়া ও সাদিয়া ইয়াংছা উচ্চবিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। রেশমি ওই বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণিতে পড়ে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ১১ অক্টোবর সকালে রেজিস্ট্রেশন কার্ড আনতে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয় রেশমি আক্তার। পরে তার সঙ্গে অন্য দুই কিশোরীও বাড়ি থেকে বের হয়। এরপর থেকে তাদের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। স্বজনেরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও সন্ধান না পেয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন।
এ ঘটনায় মঙ্গলবার লামা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। পরে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত শুরু করে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, বুধবার দিবাগত রাতে চট্টগ্রাম মহানগরীর খুলশী থানাধীন ২ নম্বর রোডের একটি বাসা এবং খুলশী টাউন সেন্টারের কনকর্ড টাওয়ারের আরেকটি বাসা থেকে পৃথকভাবে তিন কিশোরীকে উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, তারা সেখানে বাসাবাড়িতে গৃহপরিচারিকার কাজের জন্য অবস্থান করছিল।

এদিকে, কিশোরীদের নিখোঁজ হওয়ার কারণ নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। পরিবারের সদস্যদের দাবি, রেজিস্ট্রেশন কার্ড আনতে যাওয়ার কথা বলে তারা বাড়ি থেকে বের হয়েছিল।

চকরিয়া উপজেলার মানিকপুর উচ্চবিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দুলাল কান্তি শর্মা জানান, রেশমি আক্তারসহ তিন কিশোরী তার বিদ্যালয়ে যায়নি। রেশমি ওই বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ত। চলতি বছর সে লামার ইয়াংছা উচ্চবিদ্যালয়ে নবম শ্রেণিতে ভর্তি হয়। গত ১২ অক্টোবর রেশমির মামা পরিচয়ে এক ব্যক্তি বিদ্যালয়ে এসে তার বিষয়ে খোঁজখবর নিলে তিনি বিষয়টি জানতে পারেন।

ইয়াংছা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মফিজ উদ্দিন জানান, নিখোঁজ তিন শিক্ষার্থীই বিদ্যালয়ে অনিয়মিত ছিল। গত ৩০ সেপ্টেম্বর তারা সর্বশেষ নিজ নিজ শ্রেণিতে উপস্থিত ছিল। এরপর থেকে তারা আর বিদ্যালয়ে আসেনি। সোমবার অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগের পর তাদের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি জানা যায়।

বান্দরবানের পুলিশ সুপার মোহা. ওহাবুল ইসলাম খন্দকার জানান, ১৪ অক্টোবর দিবাগত রাতে চট্টগ্রাম মহানগরীর খুলশী থানা এলাকার দুটি বাসা থেকে তিন কিশোরীকে উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, তারা বাসাবাড়িতে গৃহপরিচারিকার কাজের জন্য সেখানে অবস্থান করছিল। পরে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাদের পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।

একসঙ্গে তিন কিশোরী নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় লামার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ইয়াংছা-অংহ্লারী পাড়া এলাকায় উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়ে। চার দিন পর তাদের উদ্ধারের খবরে পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে।