October 28, 2026, 10:44 pm
শিরোনাম :
ডিএসসিসির উচ্ছেদ অভিযান, শতাধিক অবৈধ অবকাঠামো উচ্ছেদসহ মালামাল জব্দ সব সম্পদের বিনিময়ে মুক্তি চান মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযুক্ত শিক্ষক সাগর এনসিপির জেলা থেকে ওয়ার্ড কমিটিতে থাকতে পারবেন না চলমান শিক্ষার্থীরা কাবা শরীফে পৃথক জামাতের প্রচলন বন্ধ করে এক ইমামের পেছনে নামাজের ১০০ বছর মিরপুরে আলোকস্বল্পতায় বন্ধ খেলা ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনা ৫০ শতাংশ কমাতে চায় সরকার : প্রতিমন্ত্রী নেতানিয়াহুকে হটাতে আরব ইসরায়েলিদের সঙ্গে জোট করার আহ্বান বিরোধী নেতার চট্টগ্রামে দুই হত্যা মামলায় ডেভিড ইমনের ৭ দিনের রিমান্ড বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কোক স্টুডিওর বিশেষ প্রতিযোগিতা সেনাবাহিনী মোতায়েন ও ইউএনও প্রত্যাহারসহ চার দাবি ১১ দলীয় জোটের

নামাজে মনোযোগ নষ্ট করে যে শ্রেণির শয়তান

অনলাইন ডেস্ক

নামাজ মুমিনের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইবাদতগুলোর একটি। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের মাধ্যমে বান্দা আল্লাহর সঙ্গে তার সম্পর্ক দৃঢ় করে। কিন্তু নামাজে দাঁড়ানোর পর অনেক সময় দেখা যায়, মন স্থির থাকছে না। কখনো দুনিয়াবি চিন্তা, কখনো পুরোনো কোনো ঘটনা, আবার কখনো অপ্রয়োজনীয় ভাবনা এসে ইবাদতের একাগ্রতা নষ্ট করে। নামাজের সময় মানুষের মনোযোগে বিঘ্ন ঘটানোর জন্য বিশেষ এক শ্রেণির শয়তানের কথা উল্লেখ করা হয়েছে হাদিসে।

হাদিসে এ শয়তানের নাম খিনজিব বলে উল্লেখ করা হয়েছে। হজরত উসমান ইবনু আবুল আস (রা.) রাসুলুল্লাহর (সা.) কাছে এসে বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! শয়তান আমার এবং আমার সালাত ও কিরাতের মাঝে প্রতিবন্ধক হয়ে তা আমার জন্য এলোমেলো করে দেয়। তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ওটা এক (প্রকারের) শয়তান যার নাম ’খিনজিব’। যখন তুমি তার উপস্থিতি অনুভব করবে তখন (আউযুবিল্লাহ পড়ে) তার কবল থেকে আল্লাহর নামে আশ্রয় নিয়ে তিনবার তোমার বামদিকে থু থু নিক্ষেপ করবে। তিনি বলেন, পরে আমি তা করলে আল্লাহ আমার থেকে তা দূর করে দিলেন। (সহিহ মুসলিম)

এই হাদিস থেকে বোঝা যায়, নামাজে মনোযোগ নষ্ট হওয়ার বিষয়টি সবসময় মানুষের স্বাভাবিক প্রবণতা নয়; শয়তানও এ সুযোগকে কাজে লাগাতে চায়। তার উদ্দেশ্য হলো বান্দার ইবাদতের একাগ্রতা নষ্ট করা এবং আল্লাহর স্মরণ থেকে তাকে দূরে সরিয়ে দেওয়া।

নামাজে দাঁড়িয়ে হঠাৎ অফিসের কাজ, ব্যবসার হিসাব, পারিবারিক সমস্যা কিংবা দিনের কোনো পুরোনো ঘটনা মনে পড়ে যেতে পারে। কখনো এমন বিষয়ও মনে আসে, যার কথা নামাজের আগে একবারও মনে ছিল না। আবার এক রাকাতে কী পড়েছেন, পরের রাকাতে কী পড়বেন—এসব নিয়েও অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। এসব বিভ্রান্তির ক্ষেত্রে মুমিনের উচিত হতাশ না হয়ে মনকে আবার নামাজের দিকে ফিরিয়ে আনা।

নামাজে মনোযোগ ধরে রাখার অন্যতম উপায় হলো, যা পড়া হচ্ছে তার অর্থ বোঝার চেষ্টা করা। সুরা ও দোয়ার অর্থ জানা থাকলে নামাজ শুধু কিছু শব্দ উচ্চারণের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং তা হয়ে ওঠে আল্লাহর সঙ্গে বান্দার গভীর যোগাযোগের মুহূর্ত।

এ ছাড়া নামাজের আগে অপ্রয়োজনীয় ব্যস্ততা কমানো, অজু করে কিছুক্ষণ স্থির থাকা, মোবাইল ফোন সাইলেন্ট রাখা এবং তাড়াহুড়া না করে নামাজ আদায় করাও মনোযোগ বাড়াতে সহায়ক। নামাজে কোনো চিন্তা চলে এলে তার পেছনে না ছুটে আবার কিরাত, তাসবিহ ও দোয়ার দিকে মন ফেরানো উচিত।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, নামাজে মনোযোগ নষ্ট হলে নামাজ ছেড়ে দেওয়া বা নিজেকে ব্যর্থ মনে না করে বরং শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে আল্লাহর আশ্রয় চেয়ে বারবার মনকে ইবাদতের দিকে ফিরিয়ে আনতে হবে।