
সুলাইমান (আ.) ছিলেন একজন প্রসিদ্ধ নবী। তিনি ছিলেন হজরত দাউদের (আ.) সন্তান। এই দুই নবী হজরত ইয়াকুবের (আ.) বংশধর।হজরত দাউদের (আ.) ১৯ জন ছেলের মধ্যে অন্যতম ছিলেন হজরত সুলাইমান (আ.)। মহান আল্লাহ তাকে জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও নবুয়তের সম্পদে সমৃদ্ধ করেছিলেন। হজরত সুলাইমান (আ.) তার পিতা হজরত দাউদের (আ.) মৃত্যুর পর তার স্থলাভিষিক্ত হন।
হজরত সুলাইমান (আ.) ১৩ বছর বয়সে সিংহাসনে আরোহণ করেন। মৃত্যুর সময় তার বয়স ছিল ৫৩ বছর। অর্থাৎ তার রাজত্ত্বকালের সময় ছিল দীর্ঘ ৪০ বছর।
হজরত সুলামাইমানের (আ.) রাজত্ব শামের (সিরিয়া) পবিত্র ভূমিতে ছিল বলে মতামত দিয়েছেন মুফাসসিররা। হজরত সুলাইমানকে (আ.) আল্লাহ তায়ালা বিশেষ কিছু বৈশিষ্ট্য দান করেছিলেন। মানব, দানব, জিন, পশু-পাখি সব কিছুর ওপর তার আধিপত্য ছিল।
তিনি আল্লাহর কাছে তিনটি বিষয়ে দোয়া করেছিলেন। এক হাদিসে হজরত আবদুল্লাহ ইবন আমর (রা.) থেকে বর্ণিত, আবদুল্লাহ ইবন আমর (রা.) রাসুলুল্লাহর (সা.) কাছ থেকে বর্ণনা করেন যে—
সুলাইমান ইবনে দাউদ (আ.) যখন বায়তুল মাকদিস তৈরি করলেন, তখন তিনি আল্লাহ তায়ালার কাছে তিনটি জিনিস চাইলেন, তিনি আল্লাহ তায়ালার কাছে প্রার্থনা করলেন এমন ফায়সালা যা তার ফায়সালার মতো হয়, তাকে তা প্রদান করা হল।
তিনি আল্লাহ তায়ালার কাছে চাইলেন এমন রাজ্য, যার অধিকারী তারপর আর কেউ না হয়। তাও তাকে দেয়া হল।
যখন তিনি মসজিদ তৈরির কাজ শেষ করলেন তখন তিনি আল্লাহ তায়ালার কাছে প্রার্থনা করলেন, যে ব্যক্তি এতে সালাতের জন্যে আসবে, তাকে যেন পাপ থেকে মুক্ত করে দেন ওই দিনের মতো যেদিন তাকে তার মা প্রসব করেছিল। (সুনানে আন-নাসায়ী, হাদিস : ৬৯৩)।