October 28, 2026, 10:45 pm
শিরোনাম :
ডিএসসিসির উচ্ছেদ অভিযান, শতাধিক অবৈধ অবকাঠামো উচ্ছেদসহ মালামাল জব্দ সব সম্পদের বিনিময়ে মুক্তি চান মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযুক্ত শিক্ষক সাগর এনসিপির জেলা থেকে ওয়ার্ড কমিটিতে থাকতে পারবেন না চলমান শিক্ষার্থীরা কাবা শরীফে পৃথক জামাতের প্রচলন বন্ধ করে এক ইমামের পেছনে নামাজের ১০০ বছর মিরপুরে আলোকস্বল্পতায় বন্ধ খেলা ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনা ৫০ শতাংশ কমাতে চায় সরকার : প্রতিমন্ত্রী নেতানিয়াহুকে হটাতে আরব ইসরায়েলিদের সঙ্গে জোট করার আহ্বান বিরোধী নেতার চট্টগ্রামে দুই হত্যা মামলায় ডেভিড ইমনের ৭ দিনের রিমান্ড বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কোক স্টুডিওর বিশেষ প্রতিযোগিতা সেনাবাহিনী মোতায়েন ও ইউএনও প্রত্যাহারসহ চার দাবি ১১ দলীয় জোটের

গোপনে বিয়ের পর তালাক হয়ে গেলে কি তা প্রকাশ করতে হবে?

ধর্ম ডেস্ক

ইসলামী বিধানমতে বিয়েতে অভিভাবকের অনুমতি ও দুইজন সাক্ষীর উপস্থিতিতে ইজাব কবুল পাওয়া শর্ত। বিয়ের ক্ষেত্রে ইসলামী শরিয়তে অভিভাবকের অভিমত গুরুত্বপূর্ণ। এক হাদিসে এ বিষয়ে তাগিদ দিয়ে আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেন, ‘অভিভাবক ছাড়া বিয়ে সংঘটিত হয় না।’ (তিরমিজি, হাদিস: ১১০১)

 

ঘোষণা না দিয়ে এবং আপনজনকে না জানিয়ে গোপনে বিয়ে করা অসামাজিক, অমানবিক ও লজ্জাজনক কাজ। এজন্য বিয়ের ক্ষেত্রে গোপনীয়তা পছন্দ করে না ইসলাম। ঘটা করে ঘোষণা দিয়ে বিয়ে করার কথা বলেছেন রাসুল (সা.)। এরপরও কেউ যদি গোপনে বিয়ে করে এবং পরবর্তীতে তাদের তালাক হয়ে যায়, তাহলে তা জানানো জরুবি বা এ বিষয়ে ইসলামের বিধান কী?

ইসলামী বিধানমতে, যদি কেউ গোপনে বিয়ে করে ও পরবর্তীতে তালাক হয়ে যায়, তাহলে অতীতের এ বিয়ে ও তালাক সবার কাছে প্রকাশ করা শরয়ীভাবে আবশ্যক নয়।  ইসলামে নিজের গোপন গুনাহ বা অতীতের ভুল অযথা প্রচার করতে উৎসাহ দেওয়া হয় না। রাসুল (সা.) বলেছেন, আমার উম্মতের সবাই ক্ষমাপ্রাপ্ত হতে পারে, তবে যারা প্রকাশ্যে গুনাহ প্রচার করে তারা নয়। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬০৬৯; সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৭৬৭৬)

তাই কেউ অতীতে গোপনে বিয়ে করলে এবং সেই সম্পর্ক ভেঙে গেলে প্রকাশ করার প্রয়োজন নেই। কারণ, বিষয়টি আল্লাহ গোপন রেখেছেন, তাই অপ্রয়োজনীয়ভাবে সবার কাছে বলা জরুরি নয়।

তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ভবিষ্যতে বিয়ের সময় যদি আইনগত, সামাজিক বা শরয়ী কোনো জটিলতা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে—যেমন, আগের স্ত্রীর কোনো দাবি, কাবিন/ডকুমেন্ট, সাক্ষী বা প্রমাণ বা ভবিষ্যতে বড় ধরনের প্রতারণার অভিযোগ উঠার কোনো সম্ভবনা— তাহলে বিশ্বস্ত আলেম ও আইনগত পরামর্শ নিয়ে কীভাবে বিষয়টি পরিচালনা করতে হবে, তা ঠিক করা উচিত।

আরেকটি বিষয় হলো, গোপনে বিয়ে এবং তালাকের মাধ্যমে সেই সম্পর্ক শেষ হওয়ার পর নতুন করে কাউকে বিয়ে করলে তাকে অতীতের সব কথা বিস্তারিত খুলে বলা ‘ফরজ’ নয়। তবে সরাসরি মিথ্যা বলা বা প্রতারণা করাও জায়েজ নয়। যদি এমন প্রশ্ন আসে যেখানে সত্য গোপন করলে গুরুতর ক্ষতি বা প্রতারণা হয়, তখন কৌশলী ও সীমিতভাবে সত্য বলা যেতে পারে।

ইসলাম যে তিনটি ক্ষেত্রে ‘তাওরিয়া’ তথা কৌশলী-উত্তর দেয়ার অবকাশ দিয়েছে, তারমধ্যে একটি হল, স্বামী-স্ত্রীর মাঝে ভালোবাসা ও মিল সৃষ্টি বা রক্ষা। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, তিনটি ক্ষেত্র ব্যতীত অসত্য বলা হালাল নয়। ১. স্ত্রীকে সন্তুষ্ট করতে যেয়ে কিছু বলা ২. যুদ্ধের প্রয়োজনে অসত্য বলা। ৩. পরস্পর সুসম্পর্ক স্থাপন করতে গিয়ে কিছু অসত্য বলা। (তিরমিজি, হাদিস: ১৯৪৫)