
কিলিয়ান এমবাপে, লামিনে ইয়ামালকে হারিয়ে এবারের ব্যালন ডি’অর উঠেছে বায়ার্ন মিউনিখের ইংলিশ স্ট্রাইকার হ্যারি কেইনের হাতে। অবশ্য তিনি সবাইকে চমকে দিয়েই যে মর্যাদাপূর্ণ এই পুরস্কার জিতলেন তা নয়। ক্লাব-জাতীয় দল মিলিয়ে গত মৌসুমে ৭৩ গোল করার পর প্রায় সকল সমীকরণেই কেইনকে এগিয়ে রেখেছিল। তবে বড় ম্যাচে দলের জন্য তিনি কিছু করতে পারেন না বলে চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করেছে সাবেক এক ফরাসি তারকা।
গত সোমবার দিবাগত রাতে প্রথমবার লন্ডনের প্যালাডিয়াম থিয়েটারে ফুটবলের অন্যতম আকর্ষণীয় ও মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার ব্যালন ডি’অর অনুষ্ঠান হয়েছে। যেখানে মূল আলোটাও কেড়ে নেন স্বাগতিক ইংল্যান্ড জাতীয় দলের অধিনায়ক হ্যারি কেইন। ভোটাভুটিতে সর্বোচ্চ পয়েন্ট পেয়ে প্রথমবার ৩৩ বছর বয়সী এই তারকা ব্যালন জিতলেন।
তবে ব্যালনজয়ী কেইনকে অনেক গুণসম্পন্ন মনে করলেও, বড় ম্যাচে দলের জন্য কিছু করতে পারেন না বলে দাবি সাবেক ফরাসি ফুটবলার সামির নাসরির। সংবাদমাধ্যম ক্যানাল প্লাসকে দেওয়া মন্তব্যে তিনি বলেন, ‘হ্যারি কেইন, ব্যালন ডি’অর…ওকে। পরিসংখ্যানই এখানে পার্থক্য গড়ে দিয়েছে। অনেক গুণের সমন্বয়ে তিনি চমৎকার এক খেলোয়াড়।’
ইংল্যান্ড অধিনায়ক দলকে ভালো কিছু দিতে পারেননি উল্লেখ করে ম্যানচেস্টার সিটি ও আর্সেনালের সাবেক মিডফিল্ডার নাসরি বলেন, ‘কিন্তু তিনি কখনো এমন খেলোয়াড় ছিলেন না, যিনি দলকে ভালো একটা অবস্থানে নিয়ে যাবেন কিংবা বড় ম্যাচে জেতাবেন। প্রায়শই সামান্য দুর্বলতা থাকে।’
যদিও বায়ার্ন মিউনিখ ও ইংল্যান্ডের হয়ে টানা গোল করে ক্যারিয়ারের সেরা মৌসুম কাটিয়েছেন এই স্ট্রাইকার। ক্লাব ও জাতীয় দলের ৬৫ ম্যাচে ৭৩ গোলের পাশাপাশি দলীয় সাফল্যও তাকে এনে দিয়েছে ফুটবলের মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত পুরস্কারটি। জাতীয় দলকে বিশ্বকাপের তৃতীয় এবং বায়ার্নের বুন্দেস লিগাসহ একাধিক ট্রফি জয়েও তার বড় ভূমিকা ছিল।
আরেকটি ব্যালন ডি’অরের জন্য ইংল্যান্ডের ২৫ বছরের অপেক্ষা শেষে কেইন জানান, ‘কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে সবকিছুই সম্ভব, এমনকি যখন কেউ আপনাকে দেখছে না তখনও। জীবনের উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে যাওয়া, আর সহনশীলতা, দৃঢ় সংকল্প ও নিজের ওপর বিশ্বাসের মাধ্যমে শেখা সবকিছুই সম্ভব। আমার যাত্রাটা সহজ ছিল না। আমি এমন কেউ নই যে খুব সহজেই সাফল্যের শিখরে পৌঁছে গেছি। আমাকে অনেক কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। আজকের এই সেরা অবস্থানে পৌঁছানোর জন্য আমাকে লড়াই করতে হয়েছে। আশা করি আমার এই যাত্রা আপনাদের জন্যও অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।’