October 29, 2026, 3:28 am
শিরোনাম :
ডিএসসিসির উচ্ছেদ অভিযান, শতাধিক অবৈধ অবকাঠামো উচ্ছেদসহ মালামাল জব্দ সব সম্পদের বিনিময়ে মুক্তি চান মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযুক্ত শিক্ষক সাগর এনসিপির জেলা থেকে ওয়ার্ড কমিটিতে থাকতে পারবেন না চলমান শিক্ষার্থীরা কাবা শরীফে পৃথক জামাতের প্রচলন বন্ধ করে এক ইমামের পেছনে নামাজের ১০০ বছর মিরপুরে আলোকস্বল্পতায় বন্ধ খেলা ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনা ৫০ শতাংশ কমাতে চায় সরকার : প্রতিমন্ত্রী নেতানিয়াহুকে হটাতে আরব ইসরায়েলিদের সঙ্গে জোট করার আহ্বান বিরোধী নেতার চট্টগ্রামে দুই হত্যা মামলায় ডেভিড ইমনের ৭ দিনের রিমান্ড বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কোক স্টুডিওর বিশেষ প্রতিযোগিতা সেনাবাহিনী মোতায়েন ও ইউএনও প্রত্যাহারসহ চার দাবি ১১ দলীয় জোটের

টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌপথ চালুর দাবি-দুই বছর ধরে টানা জীবিকার সংকট

নিজস্ব প্রতিবেদক

টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌপথ পুনরায় চালুর দাবিতে রাজপথে নেমেছেন টেকনাফের পর্যটননির্ভর হাজারো কর্মহীন মানুষ। দীর্ঘদিন ধরে জীবিকা সংকটে থাকা পর্যটন ব্যবসায়ী, পরিবহন শ্রমিক, হোটেল-মোটেল ও রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ শনিবার (১০ অক্টোবর) কক্সবাজার-টেকনাফ সড়ক তিন ঘণ্টা অবরোধ করে বিক্ষোভ, মানববন্ধন ও গণস্বাক্ষর কর্মসূচি পালন করেন। তাঁদের দাবি, আসন্ন পর্যটন মৌসুমেই টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিনে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল পুনরায় চালু করতে হবে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের প্রত্যাশা, তাঁদের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ ও জীবিকার সংকট বিবেচনায় নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে। তাঁদের মতে, নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করে টেকনাফ–সেন্টমার্টিন নৌপথ পুনরায় চালু করা গেলে পর্যটনশিল্পে গতি ফিরবে, কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে এবং স্থানীয় অর্থনীতি আবারও সচল হয়ে উঠবে।

আন্দোলনকারীদের ভাষ্য, দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রার ভোগান্তি কমানো, সেন্টমার্টিনের পর্যটনশিল্প পুনরুজ্জীবিত করা এবং টেকনাফের স্থানীয় অর্থনীতি সচল রাখতে এ নৌপথ চালুর বিকল্প নেই।

পর্যটন ব্যবসায়ীদের দাবি, মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সংঘাতের কারণে সৃষ্ট নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌপথে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। অথচ এ পথে মাত্র আড়াই ঘণ্টায় সেন্টমার্টিন দ্বীপে পৌঁছানো সম্ভব ছিল। পরবর্তী সময়ে কক্সবাজার থেকে সেন্টমার্টিনে জাহাজ চলাচল শুরু হলেও কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে টেকনাফকেন্দ্রিক পর্যটন ব্যবসা।

এতে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন পরিবহন শ্রমিক, ট্যুর অপারেটর, হোটেল-মোটেল ও রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ীসহ পর্যটন খাতের ওপর নির্ভরশীল অসংখ্য মানুষ। দীর্ঘদিন ধরে আয়-রোজগার বন্ধ থাকায় অনেক পরিবার চরম আর্থিক সংকটে পড়েছে বলে জানান আন্দোলনকারীরা।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, পর্যটনের ভরা মৌসুমেও টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌপথ বন্ধ থাকায় স্থানীয় পর্যটন ব্যবসায় স্থবিরতা বিরাজ করছে। অনেক হোটেল ও রেস্তোরাঁ বন্ধ হয়ে গেছে। এ খাতের ওপর নির্ভরশীল বহু মানুষ মানবেতর জীবন যাপন করছেন।

তাঁদের অভিযোগ, কক্সবাজার থেকে জাহাজ চলাচলের ব্যবস্থা চালু থাকায় ওই এলাকার কিছু ব্যবসায়ী লাভবান হলেও টেকনাফের পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। একটি ব্যবসায়ী গোষ্ঠী নিজেদের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে ভুল তথ্য দিয়ে টেকনাফ থেকে জাহাজ চলাচল বন্ধ রাখার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখছে বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা।

হোটেল-রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ীরা জানান, টেকনাফের দমদমিয়া জেটিঘাট থেকে সেন্টমার্টিনে পৌঁছাতে আনুমানিক দুই থেকে তিন ঘণ্টা সময় লাগে। বিপরীতে কক্সবাজার থেকে সমুদ্রপথে দ্বীপটিতে যেতে সাত থেকে আট ঘণ্টা সময় লাগছে বলে তাঁদের দাবি। এতে পর্যটকদের যাতায়াতে ভোগান্তি বাড়ার পাশাপাশি টেকনাফের হোটেল, রেস্তোরাঁ ও পরিবহন ব্যবসায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

তাঁদের মতে, পর্যটকদের যাতায়াত সহজ করা এবং স্থানীয় অর্থনীতিকে সচল রাখতে টেকনাফ থেকে জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়া জরুরি।

কর্মসূচিতে সংহতি জানান স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও। চলতি পর্যটন মৌসুমে নৌপথটি চালুর উদ্যোগ নিতে স্থানীয় সংসদ সদস্য, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন তাঁরা।

হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘টেকনাফকে মাদকমুক্ত করতে হলে স্থানীয় মানুষের জন্য বৈধ কর্মসংস্থান ও আয়ের সুযোগ তৈরি করতে হবে। পর্যটন এ অঞ্চলের মানুষের আয়ের অন্যতম উৎস। তাই টেকনাফ–সেন্টমার্টিন নৌপথ পুনরায় চালু করা জরুরি।’

তিনি আরও বলেন, বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর টেকনাফ স্থলবন্দর খুলে দেওয়া হয়েছে এবং নদীতে মাছ ধরার সুযোগ উন্মুক্ত করা হয়েছে বলে তাঁরা উল্লেখ করছেন। তাহলে টেকনাফ–সেন্টমার্টিন নৌপথ চালুর বিষয়ে কেন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।

আন্দোলনকারীরা জানান, চলতি পর্যটন মৌসুমেই টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিনে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল পুনরায় চালুর দাবিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করবেন তাঁরা। এ লক্ষ্যে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও টেকনাফের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে স্মারকলিপি দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের প্রত্যাশা, তাঁদের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ ও জীবিকার সংকট বিবেচনায় নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে। তাঁদের মতে, নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করে টেকনাফ–সেন্টমার্টিন নৌপথ পুনরায় চালু করা গেলে পর্যটনশিল্পে গতি ফিরবে, কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে এবং স্থানীয় অর্থনীতি আবারও সচল হয়ে উঠবে।