October 28, 2026, 10:44 pm
শিরোনাম :
ডিএসসিসির উচ্ছেদ অভিযান, শতাধিক অবৈধ অবকাঠামো উচ্ছেদসহ মালামাল জব্দ সব সম্পদের বিনিময়ে মুক্তি চান মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযুক্ত শিক্ষক সাগর এনসিপির জেলা থেকে ওয়ার্ড কমিটিতে থাকতে পারবেন না চলমান শিক্ষার্থীরা কাবা শরীফে পৃথক জামাতের প্রচলন বন্ধ করে এক ইমামের পেছনে নামাজের ১০০ বছর মিরপুরে আলোকস্বল্পতায় বন্ধ খেলা ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনা ৫০ শতাংশ কমাতে চায় সরকার : প্রতিমন্ত্রী নেতানিয়াহুকে হটাতে আরব ইসরায়েলিদের সঙ্গে জোট করার আহ্বান বিরোধী নেতার চট্টগ্রামে দুই হত্যা মামলায় ডেভিড ইমনের ৭ দিনের রিমান্ড বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কোক স্টুডিওর বিশেষ প্রতিযোগিতা সেনাবাহিনী মোতায়েন ও ইউএনও প্রত্যাহারসহ চার দাবি ১১ দলীয় জোটের

ফ্রান্সের মতো বিক্ষোভ ইতালিতেও : ১৪১ জন পুলিশ আহত, গ্রেপ্তার ১৯৭

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রতিবেশী দেশ ফ্রান্সের মতো বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে ইতালিতেও। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে শনিবার ইতালির বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ উসকে ওঠে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংঘাতে জড়ান পুলিশ সদস্যরা। এতে কমপক্ষে ১৪১ জন পুলিশ সদস্য ও কর্মকর্তা আহত হন।

বিশৃঙ্খলা সৃষ্ট, পুলিশকে লক্ষ্য করে হামলা এবং সরকারি সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতির অভিযোগে শনিবার ২৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই ২৮ জনের মধ্যে ১২ জনই অপ্রাপ্তবয়স্ক।

শনিবারের তুলনায় গতকাল রোববারের বিক্ষোভ ছিল আরও বড়। ইতালীয় সংবাদমাধ্যম স্কাই টিজি২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, রোবাবর ১৯৭ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ স্টেশনে নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং তাদের মধ্যে ৪৩ জনকে আদালতে হাজির করা হয়েছে।

জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এবং অতিরক্ত করের চাপের প্রতিবাদে ‘ইতালিয়া ইন পিয়াজ্জা’ ব্যানারে চলছে এই বিক্ষোভ। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, শনি ওে রোববারের বিক্ষোভে মিলানে প্রায় ৫ হাজার, তুরিনে ৩ হাজার, বোলোনিয়ায় ২ হাজার, ব্রেসিয়ায় ৬০০ এবং বেরগামোতে ৮০০ জন মানুষ বিক্ষোভে অংশ নিয়েছে।

মিলানে বিক্ষোভকারীদের কয়েকটি দল পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর, বোতল, আতশবাজি ও ব্যারিকেড ছুড়ে মেরেছে। জবাবে টিয়ার শেল ও জলকামান ব্যবহার করেছে পুলিশ। শহরের কেন্দ্রস্থলে বিভিন্ন দোকানপাটে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে এবং ইতালির সামরিক পুলিশ কারাবিনিয়েরি বাহিনীর একটি গাড়ি ধ্বংস করা হয়েছে।

বিক্ষোভে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে মিলানে ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ইতালির খুচরা বিক্রেতাদের সংগঠন কনফেকমেরচিও’র বরাত দিয়ে স্কাই টিজি ২৪ চ্যানেল জানিয়েছে, বিক্ষোভের কারণে গত দু’দিনে দোকানপাট ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে ৫ লাখ ইউরোরও বেশি (৫ লাখ ৬১ হাজার ৮৬০ মার্কিন ডলার) মূল্যের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

তুরিনে পুলিশ এক প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিকে সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে এবং তিন নাবালককে ‘মলোটভ ককটেল’ (পেট্রোলবোমা) বহন করার অভিযোগে গ্রেপ্তার করেছে।

বোলোনিয়ায় রেলওয়ে স্টেশনের কাছে সংঘর্ষের ঘটনায় পাঁচ নাবালককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সেখানে বিক্ষোভকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে বোতল, পাথর ও ব্যারিকেড ছুড়েছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করেছে।

প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছেন। বিক্ষোভের নামে সহিংসতার দ্ব্যর্থহীন নিন্দা জানতে তিনি বিরোধী দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেছেন যে, হাজার হাজার মানুষ শান্তিপূর্ণভাবেও বিক্ষোভ করেছেন।

উপ-প্রধানমন্ত্রী মাত্তেও সালভিনি জানিয়েছেন, তার দল ‘লিগ’ পার্লামেন্টে একটি প্রস্তাব পুনরায় উত্থাপন করবে। এই প্রস্তাব অনুযায়ী, ঝুঁকিপূর্ণ বলে বিবেচিত বিক্ষোভ আয়োজনের ক্ষেত্রে আয়োজকদের সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি পুষিয়ে দেওয়ার জন্য আর্থিক নিশ্চয়তা প্রদান করতে হবে। মিলানের মেয়র জিউসেপ্পে সালা বলেছেন, বিক্ষোভকারীদের ক্ষোভের কারণগুলো বোধগম্য হলেও, পুলিশ কর্মকর্তাদের ওপর সহিংসতা এবং শহরের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়।

বোলোনিয়ার মেয়র মাত্তেও লেপোরেও একইভাবে এই অস্থিরতার নিন্দা জানিয়েছেন। যারা এই বিক্ষোভকে সহিংসতার অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করেছে, তাদের থেকে ইতালীয় তরুণ-তরুণীদের দূরে থাকার আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি।