October 29, 2026, 1:05 am
শিরোনাম :
ডিএসসিসির উচ্ছেদ অভিযান, শতাধিক অবৈধ অবকাঠামো উচ্ছেদসহ মালামাল জব্দ সব সম্পদের বিনিময়ে মুক্তি চান মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযুক্ত শিক্ষক সাগর এনসিপির জেলা থেকে ওয়ার্ড কমিটিতে থাকতে পারবেন না চলমান শিক্ষার্থীরা কাবা শরীফে পৃথক জামাতের প্রচলন বন্ধ করে এক ইমামের পেছনে নামাজের ১০০ বছর মিরপুরে আলোকস্বল্পতায় বন্ধ খেলা ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনা ৫০ শতাংশ কমাতে চায় সরকার : প্রতিমন্ত্রী নেতানিয়াহুকে হটাতে আরব ইসরায়েলিদের সঙ্গে জোট করার আহ্বান বিরোধী নেতার চট্টগ্রামে দুই হত্যা মামলায় ডেভিড ইমনের ৭ দিনের রিমান্ড বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কোক স্টুডিওর বিশেষ প্রতিযোগিতা সেনাবাহিনী মোতায়েন ও ইউএনও প্রত্যাহারসহ চার দাবি ১১ দলীয় জোটের

১২৩ বছরেও চশমা ছাড়া কুরআন পড়েন আব্বাস প্রামাণিক

নিজস্ব প্রতিবেদক

ব্রিটিশ শাসন থেকে পাকিস্তানের জন্ম। ভাষার জন্য বাঙালির আন্দোলন থেকে মহান মুক্তিযুদ্ধ- ইতিহাসের নানা বাঁক নিজের চোখেই দেখেছেন নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার যোগেন্দ্রনগর গ্রামের আব্বাস প্রামাণিক।

 

জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী, তার বয়স এখন ১২৩ বছর। দীর্ঘ জীবনের ভারে ন্যুব্জ শরীরে লাঠি ছাড়া চলাফেরা করা দায়। শরীরের শক্তির সঙ্গে কমেছে তার শ্রবণশক্তিও। তবে এখনো অটুট দৃষ্টিশক্তি। চশমা ছাড়াই প্রতিদিন পবিত্র কুরআন শরিফ পড়েন তিনি।

 

জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য অনুযায়ী, আব্বাস প্রামাণিকের জন্ম ১৯০৩ সালে। সে হিসেবে তিনি দেশের প্রবীণতম ব্যক্তিদের একজন। কর্মজীবনে তিনি খুবজীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন। মাত্র ৬০ টাকা বেতনে চাকরি করার পাশাপাশি এলাকার শিশুদের বিনামূল্যে কোরআন শিক্ষা দিতেন।

 

সরেজমিনে তার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, ভাঙাচোরা একটি ঘরে নাতি-নাতবউদের সঙ্গে বসবাস করছেন আব্বাস প্রামাণিক। স্ত্রী মারা গেছেন বহু বছর আগে। বয়সের কারণে শরীর অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়েছে। তবুও নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করেন। প্রতিদিন চশমা ছাড়াই করেন কুরআন তেলাওয়াত।

 

ছয় ছেলে ও দুই মেয়ের জনক আব্বাস প্রামাণিকের প্রিয় খাবার গরুর দুধ, মসুর ডাল ও বাতাসা।

 

দীর্ঘ জীবনের নানা উত্থান-পতনের সাক্ষী আব্বাস প্রামাণিক এখন পরিবারের প্রবীণতম সদস্য। বয়সের ভারে নুয়ে পড়লেও ধর্মীয় অনুশীলন ও সরল জীবনযাপনের অভ্যাস এখনো ধরে রেখেছেন তিনি। এলাকার মানুষের কাছে তাই তিনি শুধু একজন শতায়ু প্রবীণ নন, বরং অতীতের বহু সময়ের জীবন্ত সাক্ষী।

 

তার মেয়ে আলিমা বেগম বলেন, আমার আব্বা এখনো চশমা ছাড়া কোরআন পড়েন। অথচ আমরা তার সন্তানেরাই এখন চোখে ঝাপসা দেখি। ছোটবেলা থেকেই আব্বাকে সৎ ও সহজ-সরল জীবনযাপন করতে দেখেছি।

নাতি শফিকুল ইসলাম বলেন, দাদা সারাজীবন সৎ ও ধার্মিক জীবনযাপন করেছেন। তিনি গাড়িতে চড়াকে বিলাসিতা মনে করতেন। তাই জীবনের বেশিরভাগ সময় হেঁটেই এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যেতেন। এখনো সুযোগ পেলেই লাঠিতে ভর দিয়ে বাড়ির উঠানে কিছুক্ষণ হাঁটেন।

 

পরিবারের সদস্যরা নিজেদের সংসার নিয়ে ব্যস্ত থাকলেও সবাই মিলে আব্বাস প্রামাণিকের দেখাশোনা করেন। নাতি বেলাল হোসেন বলেন, আমরা সবাই নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী দাদার যত্ন নিই। কিন্তু এই বয়সে তার সার্বক্ষণিক যত্ন, পুষ্টিকর খাবার ও ভালো একটি বাসস্থানের প্রয়োজন।

গুরুদাসপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহমিদা আফরোজ বলেন, আব্বাস প্রামাণিক আমাদের উপজেলার একজন প্রবীণতম ব্যক্তি। তার চলাচলের সুবিধার জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাড়ির সামনে সিঁড়ি তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। খুবজীপুর প্রবীণ সেবাকেন্দ্র তার চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছে। উপজেলা প্রশাসনও বিভিন্ন সময়ে তাকে সহযোগিতা করে আসছে। আমরা তার প্রতি আরও দৃষ্টি রাখব।