April 18, 2026, 3:09 am
শিরোনাম :
ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে শহীদ মিনারে এস.কে প্রতিবন্ধী ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান সহ কর্মকর্তা কর্মচারীবৃন্দ। বিএনপি নির্বাচিত হলে বাংলাদেশের আর কোন মানুষ গুম হবে না-সালাউদ্দিন আহমদ কক্সবাজার-মহেশখালীর পর মগনামা-কুতুবদিয়ায় যুক্ত হল সী-ট্রাক এস.কে ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়াম্যান মানবিক মোঃ হেফাজ উদ্দিন নয়নের উদ্যোগে ৩য় দফা খুরুশকুল ও পি.এম খালীর কার্ডদ্বারী ভুক্তাদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ এস.কে ফাউন্ডেশনের কার্ডদ্বারী ভুক্তাদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ রামু থানা পুলিশ ও ঈদগড় ক্যাম্পের অভিযানে রাইফেলের গুলি ও কার্তুজ উদ্ধার টেকনাফের বাহারছড়ায় মানব পাচার চক্র ও ডাকাতদলের গুলাগুলিতে সুমাইয়া নামের এক তরুণী নিহত ওসমানী মেডিক্যালের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি ঘোষনা করেছন। এস.কে প্রতিবন্ধি ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে প্রতিবন্ধি ও হতদরিদ্রদের মাঝে পারিবারিক খাদ্য সামগ্রী কার্ড বিতরণ প্রেমিকাকে ভিডিও কলে রেখে আত্মহত্যা করেছে এক কলেজ ছাত্র

ওসমানী মেডিক্যালের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি ঘোষনা করেছন।

অনলাইন ডেক্স

সিলেট বিভাগের সবচাইতে বড় চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান  সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা  এক নারী চিকিৎসককে হেনস্তার অভিযোগে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেছেন ।  তাদের কর্মস্থলের নিরাপত্তা ও দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা কর্মসূচি চালিয়ে জাবেন বলে জানিয়ে দিয়েছেন। সৃষ্ট পরিস্থিতিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ‘আলাদা চিকিৎসক স্কোয়াড’ গঠন করে রোগীদের চিকিৎসা সেবা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে। এ ঘটনায়  তিন জনকে আটক করেছে পুলিশ।

 হাসপাতালের  সূত্রে জানা যায়,  গত শুক্রবার রাত দিবাগত ১০টার দিকে হাসপাতালের ৬নং ওয়ার্ডে একসঙ্গে ভর্তি  হতে আসেন তিন জন রোগী । এ সময় সেখানে কর্তব্যরত ইন্টার্ন চিকিৎসকের ওপর তার রোগীকে দ্রুত ভর্তি করে দিতে চাপ প্রয়োগ করেন রোগীর সঙ্গে আসা এক ব্যক্তি । এ সময় ওই ইন্টার্ন চিকিৎসক ও নার্সদের সঙ্গে তর্কে জড়ান।  বিতণ্ডার একপর্যায়ে  শিক্ষানবিশ চিকিৎসকসহ দায়িত্বরতদের ওপর হামলা চালান ওই রোগীর সাথে থাকা স্বজনরা। হামলায় এক নারী শিক্ষানবিশ চিকিৎসক হেনস্তার করেএবং ওয়ার্ডে দায়িত্বরত কয়েকজন কর্মী মারধর করেন।

 তাৎক্ষণিক দায়িত্বরত শিক্ষানবিশ চিকিৎসকরা হামলার সঙ্গে সম্পৃক্ত এক নারীসহ তিন জনকে আটক করে রাখেন। । খবর পেয়ে পুলিশ  গভীর রাতে ওই তিন জনকে হাসপাতাল থেকে থানায় নিয়ে যায়। বর্তমানে তাদের মধ্যে দুজন নগরীর অন্য একটি প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। একজনকে থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে।

ওসমানী হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. মো. মাহবুবুল আলম জানান, ‘হামলার ঘটনায় নিরাপত্তা ও দোষীদের শাস্তির দাবিতে শিক্ষানবিশ চিকিৎসকরা রাত থেকেই কর্মবিরতি পালন করছেন। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব।’

তিনি বলেন, ‘হাসপাতাল এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে আমরা প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে । আলাদা চিকিৎসক স্কোয়াড গঠন করে হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা চলমান রয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়টিও প্রক্রিয়াধীন।’

এ ব্যাপারে সিলেট মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (মিডিয়া) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘রোগীর স্বজনদের সঙ্গে হাসপাতালের শিক্ষানবিশ চিকিৎসক ও স্টাফদের মধ্যে তর্ক এবং মারামারির ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশের কয়েকটি দল হাসপাতালে যায়। হামলার ঘটনায় কয়েকজন আটক আছেন। হাসপাতাল এলাকায় নিরাপত্তা ও শান্তি বজায় রাখতে পুলিশ তৎপর আছে।’ পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলেও তিনি বলেন।

আন্দোলনে থাকা ইন্টার্ন চিকিৎসক মার্জিয়া আলম বলেন, ‘দায়িত্বরত চিকিৎসককে সেবা দিতে হলে অনেক কিছু প্রক্রিয়া রয়েছে হাসপাতালের। রোগীরা অনেক ক্ষেত্রেই সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ করেন না। আমাদের নারী চিকিৎসককে হেনেস্তার সুষ্ঠু বিচার না হওয়া পর্যন্ত আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাবো।’

হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন ও প্রশিক্ষণ) ডা. মো. কামরুজ্জামান বলেন, ‘হাসপাতালে যে ঘটনা ঘটেছে তা একেবারেই ন্যক্কারজনক। হাসপাতালে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতিতে রোগীদের সেবার ক্ষেত্রে কোনও সমস্যা হচ্ছে না। রোগীদের সেবা চলমান রয়েছে। হাসপাতালে আমাদের ইনডোর মেডিক্যাল অফিসার, রেজিস্ট্রার, সহকারী রেজিস্ট্রারসহ দায়িত্বরতরা রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।’

তবে রোগীদের সেবার ক্ষেত্রে ঘটনার সময় চিকিৎসকের দায়িত্বে গাফিলতি থাকলে তা তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘কর্মবিরতির বিষয়ে ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদের শীর্ষস্থানীয়দের আমরা ডেকেছি। তাদের সঙ্গে কথা বলে আমরা কর্মবিরতি প্রত্যাহারের আহ্বান জানাবো।

হাসপাতালের নিউরোসার্জারি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. এস এম আসাদুজ্জামান জুয়েল জানান, ৯শ বেডের ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রতিদিন আড়াই থেকে তিন হাজার রোগী ভর্তি থাকেন। এ কারণে চিকিৎসা সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে তাদের গলদঘর্ম হতে হয়।