সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, ২০ তলারও বেশি উঁচু একটি ভবনের ছাদের সুইমিং পুল থেকে পানি নিচে পড়ছে।
আরেকটি ভিডিওতে দেখা গেছে, পানামা খালের ওপর একটি সেতু তীব্রভাবে কাঁপছে, তবে যানবাহন চলাচল অব্যাহত থাকা সত্ত্বেও সেটি অক্ষত ও দাঁড়িয়ে আছে।
পানামার প্রেসিডেন্ট হোসে রাউল মুলিনো বলেন, “আমরা একটি বড় ধরনের দুর্যোগের মুখোমুখি হয়েছি।” তিনি আরও জানান, রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বেশ কয়েকটি রাস্তা ধসে পড়ায় সড়ক যেগাাযোগ নেটওয়ার্কের উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
মধ্য কোকলে প্রদেশের পেনোনোমে শহরের একটি দোকানের ক্যাশিয়ার ৩৮ বছর বয়সী জুয়ানা আলভিও এএফপি-কে বলেন, “এটি ছিল ভয়াবহ, এমন অভিজ্ঞতা আমাদের আগে কখনো হয়নি। আমার মেয়ে স্কুলে আটকা পড়েছিল।”
বিশ্বের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ কৃত্রিম বাণিজ্য জলপথ পানামা খাল এই পানামার ভূখণ্ডে অবস্থিত। ভূমিকম্পের পর পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের জন্য সুনামি সতর্কতা জারি করা হলেও পরে তা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। পানামা খাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভূমিকম্পের কারণে প্রশান্ত ও আটলান্টিক মহাসাগরকে সংযোগকারী এই জলপথে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হয়নি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী ফার্নান্দো বয়েড জানিয়েছেন, ভূমিকম্পের কারণে হেরেরা, কোকলে এবং লস সান্তোস— এই তিন প্রদেশ সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছে। সড়ক যোগাযোগ নেটওয়ার্ক ভেঙে পড়ায় লস সান্তোসের টোনোসি শহরটি সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
“আমরা আকাশপথে সেখানে যাওয়ার চেষ্টা করছি। কারণ স্থলপথে যাওয়া অসম্ভব”, এএফপিকে বলেছেন ফার্নান্দো বয়েড।
ভূমিকম্পের পর পানামা সিটির আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরটি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল। দেশটির বেসামরিক বিমান পরিষেবা কর্তৃপক্ষ সিভিল অ্যারোনেটিক্স অথরিটির কর্মকর্তারা বলেছেন, সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে বেশ কয়েকটি ফ্লাইট অন্য বিমানবন্দরে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়।
প্রতিবেশী কলম্বিয়া, ইকুয়েডর ও গুয়াতেমালা ইতোমধ্যে সংহতি প্রকাশ করে সাহায্যের প্রস্তাব দিয়েছে পানামার সরকারকে।
সূত্র : এএফপি, এনডিটিভি