
কক্সবাজারের রামু উপজেলার খুনিয়াপালং ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের থোয়াইংগাকাটা এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা কারবার পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে আবদুল হক নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের দাবি, এলাকায় মাদক সরবরাহের একটি বড় নেটওয়ার্কের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা রয়েছে। বিভিন্ন সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে মাদকসহ আটক ও তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হওয়ার তথ্যও রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, থোয়াইংগাকাটা জামে মসজিদের পাশের সড়ক দিয়ে পশ্চিম দিকে অল্প ভেতরে আব্বাসের দোকানের উত্তর পাশে থাকা একটি ছোট পাহাড়কে কেন্দ্র করে মাদক কারবারের একটি আস্তানা গড়ে উঠেছে। চারপাশে বসতবাড়ি থাকায় এলাকাটি ঘনবসতিপূর্ণ হলেও দীর্ঘদিন ধরে সেখানে মাদক কেনাবেচা ও সেবনের অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীদের দাবি, আবদুল হকের কাছ থেকে মাদক সংগ্রহ করে কয়েকজন এলাকায় খুচরা বিক্রি করেন। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে গেলে যত বাধা বিপত্তি।
এলাকাবাসীর আরও অভিযোগ, আবদুল হকের ভাই মনজুর আলম একটি দোকানে বসে আশপাশের পরিস্থিতি নজরদারি করেন। মাদকের টাকা তার হাতে পৌঁছানোর পর বাড়ি থেকে নিজেই মাদক বুঝিয়ে দেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, আবদুল হকের দুই স্ত্রীও পৃথকভাবে খুচরা বিক্রেতাদের কাছে ইয়াবা পৌঁছে দেওয়ার কাজে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। একই এলাকায় উঠতি বয়সী তরুণদের প্রকাশ্যে ইয়াবাসেবনের অভিযোগও পাওয়া গেছে।
• একাধিক বাড়িকে ঘিরে অভিযোগ •
স্থানীয়রা জানান, আবদুল হক ও তার ভাই ওবায়দুল হক একই বাড়িতে বসবাস করেন। বাড়ির পূর্ব পাশে ওবায়দুল হক এবং পশ্চিম পাশে আবদুল হকের বসবাস। তবে আবদুল হকের আরও কয়েকটি বাড়ি রয়েছে বলেও স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
ফজল আম্বিয়া স্কুলের পেছন দিক থেকে প্রায় ১০০ গজ উত্তরে আবদুল হকের আরেকটি বাড়ি রয়েছে বলে স্থানীয়দের দাবি। অভিযোগ রয়েছে, ওই বাড়িতে রাতের বেলায় মাদক সংক্রান্ত কার্যক্রম চলে।
এ ছাড়া থোয়াইংগাকাটা জামে মসজিদের পশ্চিম পাশে পাশাপাশি থাকা দুটি বাড়ির মধ্যে একটি বাড়িতে আবদুল হকের দুই স্ত্রী বসবাস করেন বলে স্থানীয়রা জানান। ওই বাড়ির একটি ঘরের দরজার পাশের দেয়ালে সুইচ বোর্ডের মতো দেখতে কয়েকটি গোপন স্থান রয়েছে এবং সেখানে মাদক রাখা হয় বলে স্থানীয় সূত্রের অভিযোগ। মাদকের সংকট দেখা দিলে সেখান থেকে মাদক বের করে সরবরাহ করা হয় বলেও দাবি করা হয়েছে।
পূর্বদিকে থাকা আবদুল হকের আরেকটি বাড়ি নিয়েও স্থানীয়দের অভিযোগ রয়েছে। তাদের দাবি, ওই বাড়িতে মাদক কেনাবেচার লেনদেন হয় এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সেখানে মাদক সেবন করেন।
বিরোধিতা করলে ঝগড়া-বিবাদের অভিযোগ
স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকায় মাদক কারবারের বিরুদ্ধে কেউ কথা বললে আবদুল হক ও তার সহযোগীরা ঝগড়া-বিবাদে জড়িয়ে পড়েন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তোয়াক্কা না করে দীর্ঘদিন ধরে মাদক কারবার চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করেছেন স্থানীয়রা।
এদিকে আবদুল হকের বিরুদ্ধে আরও গুরুতর অভিযোগ করেছেন কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা। তাদের দাবি, তার কাছে একটি বিদেশি পিস্তল রয়েছে। রাতের দিকে রাস্তাঘাটে মানুষের চলাচল কমে গেলে ওই অস্ত্র নিয়ে বাইরে বের হওয়ার অভিযোগও করেছেন তারা। তবে অস্ত্র থাকার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ছাড়া নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
বিভিন্ন থানায় আটক ও মামলার তথ্য
স্থানীয়দের দাবি, আবদুল হক দীর্ঘদিন ধরে মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত এবং দেশের বিভিন্ন এলাকায় তার চলাচল রয়েছে। চট্টগ্রামের সদরঘাট থানা, নাইক্ষ্যংছড়ি থানা, টেকনাফ থানা ও রামু থানাসহ বিভিন্ন এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে মাদকসহ আটক হওয়ার এবং তার বিরুদ্ধে মামলা হওয়ার তথ্য রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
তবে এসব মামলার সংখ্যা, মামলা নম্বর, আটকের তারিখ ও মামলার বর্তমান অবস্থান সংশ্লিষ্ট থানার নথি ও আদালতের রেকর্ড থেকে যাচাই করা প্রয়োজন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, বিভিন্ন সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতার পরও এলাকায় মাদক সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। বরং নতুন নতুন ব্যক্তিকে ব্যবহার করে খুচরা পর্যায়ে মাদক ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, থোয়াইংগাকাটা এলাকায় মাদক কারবারের অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন। বিশেষ করে আবদুল হকের বিভিন্ন বাড়ি, পাহাড়ি এলাকা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের গতিবিধি নজরদারির পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় থাকা মামলা ও পূর্বের আটকের তথ্য যাচাই করা দরকার।
স্থানীয়দের দাবি, অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সরেজমিনে তদন্ত করলে মাদক সরবরাহের উৎস, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা এবং অভিযোগের বাস্তবতা স্পষ্ট হতে পারে। একই সঙ্গে অস্ত্র রাখার অভিযোগেরও আইনগতভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।