পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি নিজে শাহপরীর দ্বীপের বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ ও ভাঙনকবলিত পয়েন্ট ঘুরে দেখেন।
ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পর্যবেক্ষণ: তিনি স্থানীয় জনগণের সাথে কথা বলেন এবং বেড়িবাঁধের বর্তমান ভঙ্গুর অবস্থা অত্যন্ত কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করেন।
পরিদর্শনের সময় পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) স্থানীয় প্রকৌশলী ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা মন্ত্রীর সাথে ছিলেন। মন্ত্রী তাদের দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।স্থানীয় জনগণের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ ও আকুতি।
সামান্য জোয়ার বা বর্ষার প্রভাবে বেড়িবাঁধ ভেঙে লোকালয়ে লবণাক্ত পানি ঢুকে পড়ার কারণে কৃষিজমি নষ্ট হয়ে গেছে।
সুপেয় পানির তীব্র সংকট, যোগাযোগ ব্যবস্থার বিপর্যয় এবং ঘরবাড়ি হারানোর ভয়ে সবসময় আতঙ্কে দিন কাটায় দ্বীপের প্রায় ৩০-৪০ হাজার মানুষ।
মন্ত্রীর কাছে প্রত্যাশা: স্থানীয় বাসিন্দারা মন্ত্রীর কাছে স্থায়ী ও মজবুত বেড়িবাঁধ নির্মাণের দাবি জানান, যাতে তারা প্রতি বছর ভাঙনের আতঙ্ক থেকে মুক্তি পান।
পরিদর্শন শেষে স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে আলাপকালে পানিসম্পদ মন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় জানান যে, অতীতে নামমাত্র সংস্কার বা অপরিকল্পিত কাজের দিন শেষ। বর্তমান সরকার টেকসই ও স্থায়ী সমাধানে বিশ্বাসী।
জিও ব্যাগ বা অস্থায়ী মেরামতের পাশাপাশি নদী ও সাগরের জোয়ার-ভাটার তীব্রতা সহ্য করতে পারে—এমন মজবুত কাঠামো বা ব্লক দিয়ে স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কাজের মানে কোনো ধরনের দুর্নীতি বা অবহেলা বরদাস্ত করা হবে না বলে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন মন্ত্রী।
স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ ও প্রত্যাশা
শাহপরীর দ্বীপের বাসিন্দারা বছরের পর বছর ধরে সাগরের উচ্চ জোয়ার ও জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হয়ে আসছে। একসময়ের মূল সড়ক সমুদ্রে বিলীন হয়ে যাওয়ায় যাতায়াতে চরম কষ্ট করতে হয়েছে। মন্ত্রীকে কাছে পেয়ে এলাকাবাসী তাদের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ও স্থায়ী সমাধানের আকুতি জানান। তারা আশা প্রকাশ করেন, এবার অন্তত কথার বাইরে গিয়ে বাস্তবে একটি টেকসই বাঁধের মুখ দেখবে দ্বীপবাসী।
পাউবোর কর্মকর্তারা জানান যে, মন্ত্রীর নির্দেশনার আলো দ্রুততম সময়ের মধ্যে একটি নতুন প্রকল্প বা সংশোধিত প্রস্তাব প্রস্তুত করে তা দ্রুত অনুমোদনের জন্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে, যাতে বর্ষা বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের আগেই কাজের দৃশ্যমান অগ্রগতি শুরু হয়।