
দ্রব্যমূল্যের লাগামছাড়া ঊর্ধ্বগতি ও অর্থনৈতিক দুরবস্থা নিয়ে অসন্তোষ থেকে ইরানজুড়ে শুরু হয়েছে বিক্ষোভ, এতে নিহতের সংখ্যা দাড়িয়েছে ৬২ জন । বিশ্বের মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলেছে, তাঁদের মধ্যে ছিলেন ৪৮ জন বিক্ষোভকারী ও ১৪ জন নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মকর্তা। তযুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার পর্যবেক্ষক সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্ট নিউজ এজেন্সি (এইচআরএএনএ) তথ্যে দেখা যায়, ৪৮ জন বিক্ষোভকারী ও ১৪ নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মকর্তা নিহত হওয়ায় গ্রেফতার অন্তত ২ হাজারেও অধিক বিক্ষোভকারী। নরওয়েভিত্তিক ইরান হিউম্যান রাইটস (আইএইচআরএনজিও) এর ত্বদন্তে দেখা যায় ৫১ জন বিক্ষোভকারী নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত হয়েছে। এদের মধ্যে ৯টি শিশুও ররেছে। ইরানের ভেতরে অধিকাংশ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের ওপর সংবাদ পরিবেশনে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন ইরান সরকার। ইরানি রিয়ালের ব্যাপক দরপতন, নিত্যপণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি এবং অসহনীয় জীবনযাত্রার ব্যয়ের প্রতিবাদে গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে ইরানের রাজধানী তেহরানে বিক্ষোভ শুরু করেন বিক্ষোভ কারীরা । এ বিক্ষোভ এখন দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে বিশাল রুপ ধারন করে। বিক্ষোভ থেকে সরকার পতনের ডাকও দেওয়ার কথাও শুনা যাচ্ছে। এ আন্দোলন কটোরভাবে ধমন করছেন ইরান সরকার। মাঠে নামানো হয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অর্ধিক কর্মকর্তা। ইরানের বিভিন্ন স্থানে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ভবন, মেট্রো স্টেশন, ব্যাংক ছাড়াও বাস, প্রাইভেট কার ও মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ইন্টারনেট ও সকল প্রকার যোগাযোগ মাধ্যম বন্ধ রেখেছে ইরান সরকার। ইন্টারনেট না থাকায় পরিস্থিতির পুরো চিত্র গণমাধ্যমে আসছে না বলে জানান বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা। ইরানে চলমান এ বিক্ষোভের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত সপ্তাহে লাতিন আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় হামলা চালিয়ে প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে তুলে নেওয়ার পর এবার ইরানে হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্পের সরকার। এদিকে বিক্ষোভকারীরা ট্রাম্পের পক্ষে কাজ করছেন বলে অভিযোগ করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি।